Header Ads Widget

Latest

6/recent/ticker-posts

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ | করোনা ভাইরাস | কোয়ারেন্টাইন | বিস্তারিত আলোচনা

 যারা বিদেশ থেকে বাংলাদেশে আসছেন, তাদের ১৪ দিন নিজেদের ঘরে কোয়ারেন্টিনে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে Institute of Epidemiology Disease Control and Research IEDCR. অন্যথায়, সংক্রামক ব্যাধি আইন প্রয়োগ করা হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোয়ারেন্টাইন এই শব্দটি বর্তমানে সারা বিশ্বে ব্যপক ভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপি চলতে থাকা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের কে মূলত কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে।

চলুন আমরা জেনে নিই কোয়ারেন্টিন এর অর্থ কি?

কেমব্রিজ ডিকশনারির মতে কোয়ারেন্টিন বলতে বোঝায়-

কোন মানুষ বা প্রাণী যে- কোন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে বা হয়েছে বলে সন্দেহ হলে তাকে একটা নির্দৃষ্ট সময়ের জন্য অন্যান্ন মানুষজন বা প্রাণীকুল থেকে আলাদা করে রাখা হয় যাতে রোগ ছড়াতে না পারে।

বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ বিষয়ে দণ্ডবিধির ২৬৯, ২৭০ এবং ২৭১ ধারায় বিধান রয়েছে এবং সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ নামে একটি বিশেষ আইনও রয়েছে 

এই আইনের ৩ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে- "আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে"।

যেহেতু এটি একটি বিশেষ আইন তাই এটি অন্য প্রচলিত আইনের উপর প্রাধান্য পাবে এবং এ কারণে এই পোস্টে দণ্ডবিধির বিধান গুলো আলোচনা করা হবে না।

এই আইনের ৪ ধারায়- ২৩ টি রোগকে সংক্রামক রোগ হিসেবে দেখানো হলেও ৪(ভ) উপধারায় সরকারি গ্যাজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষিত কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (Emerging or Reemerging) রোগসমূহকে সংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।

ধারা- ৯ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি-বিধানের অনুসরণ

সংক্রামক রোগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিস্তার হইতে জনগণকে সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে উক্ত রোগসমূহ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল, উক্ত রোগের প্রাদুর্ভাবের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক সতর্কতা জারি ও পারস্পরিক সহায়তার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে World Henth Organization (WHO) বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক, প্রকাশিত এবং তপশিলে উল্লিখিত International Health Regulations, প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ, সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে। মুল কথা হল বিশ্ব স্বাথ্য সংস্থ্যার বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

এই আইনের ১৪ ধারা অনুয়ায়ী আক্রান্ত ব্যক্তিকে সাময়িক জনবিচ্ছিন্ন করা বা quarantine এর  বিধানের বর্ণনা দেয়া আছে। ১৪ ধারাটি নিম্নরূপ 

" যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারীর এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোনো সংক্রমিত ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করা না হইলে তাহার মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হইতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সাময়িকভাবে অন্য কোনো স্থানে স্থানান্তর বা জনবিচ্ছিন্ন করা যাইবে।"

এই আইনের ১৫-২০ এবং ২২ ধারায় বলা হয়েছে- সংক্রমণের তথ্য জানাতে হবে সিভিল সার্জন কে, তিনি মহাপরিচালক কে জানাবেন। রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে মহাপরিচালক কোন এলাকাকে সংক্রমিত এলাকা ঘোষনা করতে পারবেন, কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা নিষিদ্ধ করতে পারবেন, প্যাথলজি নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন, রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিকে আইসোলেসন বা কোয়ারেনটাইন করতে পারবেন, তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র এমনকি প্রয়োজনে স্থাপনা ধ্বংস করতে করতে পারবেন, যে কোন স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন, যানবাহন জীবাণুমুক্ত এবং প্রয়োজনে বিনষ্ট বা ধ্বংস করার আদেশ দিতে পারবেন, মৃতদেহের সৎকার করতে পারবেন, আমদানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন।

২৪ ধারা অনুসাতে রোগের বিস্তার ঘটানো এবং তথ্য গোপন করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৪(২) ধারা অনুযায়ী যার শাস্তি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড, বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড।

অর্থ্যাৎ কোন ব্যক্তি যদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং জ্ঞাতসারে যে তথ্য গোপন করে অন্যের সাথে মেলামেশা করেন এবং এভাবে রোগের বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন তবে সে ২৪(২) অনুয়ায়ী সাজাযোগ্য অপরাধ করলেন।

কোন ব্যক্তি যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজে বাধা প্রদান করেন বা নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন তা হলে সে ধারা ২৫(২) অনুয়ায়ী অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

কেউ যদি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তা হলে ২৬(২) ধারা অনুযায়ী তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

ধারা-২৭- এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

এই আইনের ২৮ ধারা অনুয়ায়ী এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ Non-cognizable),

অ-আমলযোগ্য (Bailable) (জামিনযোগ্য এবং (Compoundable) আপোষযোগ্য ।

তো মোটামুটি এই ধারাগুলো গুরুত্বপূর্ন এবং কোয়ারেন্টিনের সাথে সম্পর্কিত।

সুতরং আপনারা বুঝতেই পারছেন করোনা ভাইরাসের কারণে যাদের কে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে এটার আইনগত ভিত্তি রয়েছে এবং এই কোয়ারেন্টিন না মেনে লোকসমাগমের মধ্যে ঘুরে বেড়ানো, কিংবা আক্রান্ত হলে তা গোপন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এই আইনের বিধানগুলো শুধু যে করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা নয় বরং যে কোন সংক্রামক রোগের   (৪ ধারায় উল্লেখিত বা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং এই রকম আরো পোস্ট পেতে আমাদের নিউজ লেটার সবস্ক্রাইব করে রাখতে পারেন, ধন্যবাদ। 


 

Post a Comment

0 Comments